কালুখালীর ম্যারেজ রেজিষ্টাররা মানছে না সরকারী নীতি

282

শহিদুল ইসলাম ঃ সরকারী নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে পরিচালিত হচ্ছে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার ৭ ম্যারেজ রেজিষ্টারের কার্যালয় (কাজী অফিস)। ফলে মুসলিম শরীয়া আইনের পর্যাপ্ত সেবা বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাটির প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ। কাজীদের অপকৌশলে বাল্যবিবাহের মত বেআইনী কাজও সম্পন্ন হচ্ছে।
সরকারী নিয়ম মোতাবেক প্রত্যেক ইউনিয়নের জনগনের সুবিধাজনক স্থানে কাজী অফিস নির্ধারন করে বিবাহ রেজিষ্ট্রেকরনের কাজ করার কথা। কিন্তু সরকার নির্ধারনকৃত (কাজী) নিকাহ রেজিষ্টারগন তা না মেনে আড়ালে আবডালে বসেই বিবাহ রেজিষ্ট্রিকরনের কাজ সম্পন্ন করছে।সরকারী নিয়মানুযায়ী বিবাহ নিবন্ধ করনের বহি(বালাম বহি) নিকাহ রেজিস্ট্রার ব্যতিত অন্য কারো নিকট হস্থান্তরযোগ্য নহে। কিন্তু কালুখালী ৭ রেজিষ্টারের বিবাহ নিবন্ধ করনের বহি(বালাম বহি) ১৮ জন কথিত কাজীর নিকট হস্থান্তর করা হয়। এরফলে সাধারন মানুষের বুঝার উপায় নেই কে তা ইউনিয়নের নির্ধারিত বিবাহ নিবন্ধ করনের বহিনিকাহ রেজিষ্টারগন ( কাজী) ।
নিয়মানুযায়ী কোন নিকাহ রেজিস্ট্রার যে ইউনিয়নের লাইসেন্স গ্রহন করেছে তার বাইরের ইউনিয়নে মসজিদ,মাদরাসা বা স্কুলে সবেতনে চাকুরী করিতে পারিবে না। কালুখালীর মদাপুর,বোয়ালিয়া,মাজবাড়ী ও কালিকাপুর ইউনিয়নের ৪ কাজী এই নিয়ম না মেনে ইউনিয়নের বাইরের এলাকায় সবেতরন মাদরাসায় চাকুরী করছেন। ফলে মাদরাসা চলাকানীন সময় এদের খুজে পাওয়া যায় ন্ া।
একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার প্রতি ১ হাজার টাকা দেনমোহরের জন্য ১০ টাকা হারে নিবন্ধন ফি আদায় করিতে পারে। এই ফি সর্বচ্চ ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের নিয়ম থাকলেও রেজিস্ট্রারগন তা মানছে না। নিকাহ রেজিষ্ট্রশন সংক্রান্ত এই তথ্য বিলবোড আকারে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সামনে ও ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ন এলাকায় বিলবোর্ড আকারে টানিয়ে দেওয়ার কথা। অফিস না থাকা ও জনগনকে বোকা বানানোর জন্য (কাজীরা) নিকাহ রেজিষ্টারগন এ নিয়ম মানছে না। সরকারী নিয়ম হচ্ছে বিবাহ নিবন্ধন ফি বর পক্ষ প্রদান করিবে। কিন্তু(কাজীরা) নিকাহ রেজিষ্টারগন কনে পক্ষের কাছ থেকে এই ফি আদায় করছে। বিবাহ নিবন্ধন নকল সরবরাহের জন্য কাজীদের ১০ টাকা গ্রহনের নিয়ম থাকলেও কাজীরা ২ থেকে ৫ শ টাকা পর্যন্ত ফি গ্রহন করছেন।
এদিকে তালাক প্রদানের সময় (কাজীদের) নিকাহ রেজিষ্টারদের ২শ টাকা ফি গ্রহনের নিয়ম থাকলেও কাজীরা আদায় করছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। যে পক্ষের উদ্যোগে তালাক প্রদান করা হইবে সেই পক্ষ এই টাকা প্রদানের নিয়ম থাকলেও কাজীরা উভয় পক্ষের থেকেই ফি গ্রহন করছে।
সরকার ১৮ বয়সের কম বয়সী মেয়েদের বিবাহ শাস্থিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইন পাশ করছে। এই আইন অমান্য কারীদের জেল/ জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সাধারনত জন্ম নিবন্ধন সদন বা ভোটার আইডি কার্ডের সহায়তায় ছেলেমেয়েদের বয়স যাচাই করা হয়। কিন্তু কম বয়সীদেরকেও নিকাহ রেজিষ্টারগন (কাজীরা) কৌশলে কাবিনের ব্যবস্থা করে দেন। এ ক্ষেত্রে নিকাহ রেজিষ্টারগন (কাজীরা) বিশেষ চক্রের সহযোগীতায় জাল নোটারী পাবলিক তৈরি করে বিবাহ কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। বয়স প্রমানের জন্য নোটারী পাবলিক গ্রহনযোগ্য দলিল না হলেও (কাজীরা) নিকাহ রেজিষ্টারগন তা মানছে না।
সচেতন মহলের দাবী, বিবাহের মত একটি গুরুত্বপূর্ন সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে নিকাহ রেজিষ্টারদের (কাজীদের)সকল অনিয়ম ও অপকৌশল বন্ধ হওয়া দরকার। সচেতন মহল এ ব্যাপারে ব্যবস্থাগ্রহনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here