বালিয়াকান্দিতে পিতার স্বপ্নপূরণে দুই ভাইয়ের কমলা চাষে সফলতা

748

সোহেল রানা ঃ পিতার স্বপ্ন ছিল একটি ফলের বাগান করা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে রামদিয়া বিএমবিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজী শিক্ষক আব্দুস সালাম শেখ তার বড় ভাই ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রউফ শেখের সার্বিক সহযোগিতায় গড়ে তুলেছেন স্বপ্ন চূড়া নার্সারী এন্ড এগ্রো ট্যুারিজম। তারা দুজন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাউন্নাইর গ্রামের মরহুম ঘুড়ান শেখের ছেলে।
স্কুল শিক্ষক আব্দুস সালাম শেখ বলেন, তার পিতার স্বপ্ন ছিল এডভান্স কৃষি গড়ে তোলা। সে লক্ষ্য নিয়েই পিতার স্বপ্ন পুরণে রামদিয়া বিএমবিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে তার বসতবাড়ী এখন স্বপ্ন চূড়া নার্সারী এন্ড এগ্রো ট্যুারিজম। এক একর জায়গায় কমলা চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বরিশালের সরুপকাঠি থেকে ১৮৩টি কমলার চারা এনে ২ বছর আগে রোপন করেন। এ বছর প্রতিটি গাছে ৫শত থেকে ১ হাজার কমলা ধরেছে। কমলার এ ফলনে তিনি খুবই আশাবাদী এ এলাকায় বিদেশ হতে কমলা আমদানী না করলেও চলবে। প্রতিটি গাছ ৩০-৩৫ বছর পর্যন্ত ফল ধরবে। ইতিমধ্যে এ ফলনের সংবাদ শুনে বিভিন্ন জেলার আগ্রহী চাষীরা ভীড় জমাচ্ছে। তিনি এ বছর বাগানের উৎপাদিত কমলা জনগণের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। এছাড়াও ৫ একর জমি লীজ নিয়ে এক একর জমিতে থাই পেয়ারা, ৪২ শতাংশ জমিতে মাল্টা, সাড়ে ৩ একর জমিতে নার্সারী গড়ে তুলেছেন। গত বছর এ নার্সারী থেকে ১৮ লক্ষ টাকার চারা বিক্রি করেছেন। চারা বিক্রির সমুদয় টাকাই লেবারসহ জমি লীজের অর্থ ব্যয় হয়েছেন। এ বছর ৫০ লক্ষ টাকার চারা বিক্রির টার্গেট রয়েছে। বর্তমানে ২১জন কর্মচারী প্রতিদিন কাজ করছেন।
তিনি বলেন, তার নার্সারীতে ব্যানানা ম্যাংগো, কিউজুয়াই, থাই বারোমাশি, গৌরমতি, কিং অফ চাকাপাত, নারিকেল কেরালা, শীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, শরিফা বারোমাসি সাদা ও লাল জাতের, জাম্বুরা থাই সাদা ও লাল জাতের, বারোমাসি কাঁঠাল, বারোমাসি কদবেল, কাশ্মিরী বরই, বল সুন্দরী, সিডলেছ, বারোমাসি চায়না লেবু, থাই বারোমাসি লেবু, সিড লেছ কাটা বিহীন লেবু। উন্নত জাতের দেশী ও বিদেশী বিভিন্ন ফলজ, ফুলের নার্সারী গড়ে তুলেছেন।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে বিদেশ হতে কমলা আমদানী করতে হয়। আমার এ উদ্যোগ বিভিন্ন অঞ্চলে কমলা চাষের সম্প্রসারণ ঘটানো। এতে কমলা আমদানী করতে হবে না। বরং রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। আমি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এতে বেকার সমস্যার সমাধান ও তরুন প্রজন্ম এ নার্সারী দেখে চাষে আগ্রহী হবে। এখন পর্যন্ত কৃষি বিভাগের কোন কর্মকর্তা আমাদের পরামর্শ বা বাগান পরিদর্শন করেননি।
মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি এমবিএ পাশ করে এখানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছি। কাজের পাশাপাশি যেন গাছের সাথে আমার হয়েছে সখ্যতা। আমিও এ কাজে থেকে এখন নিজেই নার্সারী গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি।
কমলার বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভীড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। এসময় বাগান দেখতে আসা বালিয়াকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) এস,এম আবু দারদা বলেন, কমলার এমন আবাদ এ অঞ্চলে হয়েছে খবর পেয়ে দেখতে এসেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লাগলো। সবাই এধরনের ব্যতিক্রম চাষে এগিয়ে আসা উচিত।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here