• শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

আপনার সন্তানকে যে কারনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াবেন !

প্রতিবেদকঃ / ১৬৫ পোস্ট সময়
সর্বশেষ আপডেট বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২১

(উজ্জল কুমার বিশ্বাস,
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, মধুখালী, ফরিদপুর)
শিক্ষা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আর এ অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকার ইতিমধ্যে শতভাগ শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করেছে। সেই সাথে শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখার জন্য অর্থ্যাৎ শিক্ষার্থী যাতে ঝরে না পড়ে সেজন্য মিড-ডে মিল, শতভাগ উপবৃত্তি প্রদান সহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহন করেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্দ্যোগে দেশে ৬৫৫৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় করন করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধাপে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা নিয়েও একশ্রেণির মানুষ সেবার নামে ব্যবসা শুরু করেছে। দেশের প্রায় ৭০ হাজারের মতো বেসরকারী স্কুলের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান বাদে অধিকাংশেরই নেই মানসম্মত অবকাঠামো, শিক্ষাদান ব্যবস্থা। সরকারী বিদ্যালয়ের অধিকাংশ সুযোগই সেখানে অনুপস্থিত। তাই যে কারনে আপনার সন্তানকে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াবেন তার কিছু দিক হলো-
১। বর্তমানে বৈশি^ক এই করোনা মহামারীতেও সরকারী শিক্ষকগণ তাদের জীবনের ঝুকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ফোনে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে লেখাপড়ার খোঁজ নিচ্ছেন। তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত পাঠাদন দেখা ও রেডিও বাংলাদেশে প্রচারিত পাঠদান শুনে বাড়ির কাজ প্রস্তুত করতে বলছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষকগণ সেই কাজ আবার মূল্যায়নও করেছেন।
২। অনেক বিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ, পরিবারকে খাদ্য, অর্থ সহায়তা প্রদান করছে।
৩। জুমআ্যাপ, মেজেঞ্জার, হোয়াটসআ্যাপ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছেন। উপজেলা/জেলাভিত্তিক অনলাইন স্কুলের মাধ্যমেও পাঠদান করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছেন।
৪। বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০০ থেকে ৩০০০ বা তারও বেশি টাকা পর্যন্ত বেতন দিতে হয়। এছাড়াও ভর্তি ফি, সেশন ফি, স্পোর্টস, শিক্ষা সফর, নোট, গাইড বিতরন সহ বিভিন্ন নামে শিক্ষার্থীদের নিকট হতে চাঁদা আদায় করা হয়। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এধরনের কোন টাকা দিতে হয় না।
৫। শিক্ষার্থীর রুচি ও সামর্থ্যের বাইরেও অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারী স্কুলে সরকার নির্ধারিত বইয়ের অতিরিক্ত অনেক বই পড়ানো হয়। এই অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা বহন করতে শিক্ষার্থীর নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হয়ে থাকে। সরকারী বিদ্যালয়ে এনসিটিবি অনুমোদিত বইয়ের বাইরে অন্য বই পড়ানোর সুযোগ নাই।
৬। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন বই কিনতে হয়না। বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহপাঠ্যক্রমের নামে বিভিন্ন বই কিনতে হয়।
৭। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিশুকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের এই সুযোগ নাই।
৮। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। পিটিআিইতে এক বছরের প্রশিক্ষণ ছাড়াও বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকেন। বর্তমানে শিক্ষকদের বিদেশেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এতে উক্ত শিক্ষকগণ নবতর ধ্যান-ধারনা প্রয়োগ করে শিক্ষাদান করে থাকেন। বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ এইভাবে প্রশিক্ষিত না। যদিও কিছু বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ নিজস্বভাবে প্রশিক্ষিত এবং আন্তরিক।
৯। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেকটাই খোলামেলা। শিশুদের খেলার জন্য রয়েছে মাঠ। প্রত্যেক বিদ্যালয়ের ভবনই পাকা এবং আকর্ষণীয় শ্রেণিকক্ষ। ওয়াস ব্লকের আওতায় রয়েছে একতলা/দ্বিতল স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। বিদ্যালয় রাস্তার পাশে অবস্থিত হলে তৈরি করা হচ্ছে সীমানা প্রাচীর।
১০। সরকার প্রায় সকল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর বিতরন করেছে। এসব আধুনিক এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করা হয়। অল্পকিছু বিদ্যালয় ছাড়া অধিকাংশ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই সুযোগ নাই।
১১। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের সুযোগ আছে। বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই সুযোগ খুবই সীমিত।
১২। বর্তমানে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন ধরনের শারীরিক বা মানসিক শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে শিক্ষালাভের সুযোগ পায়।
সরকারী এসব সুযোগ থাকার পরও অনেক সচেতন এবং বিত্তশালী অভিভাবক মনে করেন তাদের সন্তানের জন্য মাসে যত বেশি হাজার টাকা বেশি খরচ হবে তত তাদের মর্যাদা বাড়বে। তবে বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুযোগ-সুবিধা কম থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সঠিক সেবা প্রদানের মাধ্যমেই তারা অভিভাবকদের আকৃষ্ট করছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের সরকারী শিক্ষকগণ এবং শিক্ষা প্রশাসনকে তাদের সেবার মান নিশ্চিত করা জরুরী! সকল অভিভাবক তাদের সন্তানকে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করালে দেশের মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে এবং অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
খান মোহাম্মদ জহুরুল হক

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ
রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন (নীচ তলা),
কক্ষ নং-৩, রাজবাড়ী-৭৭০০।

Contact us: editor@dailyrajbarikantha.com

প্রকাশনাঃ
সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়নবী সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত এবং দক্ষিণ ভবাণীপুর, রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত।

মোবাইল- ০১৭১১১৫৪৩৯৬,
বার্তা বিভাগ- ০১৭৫২০৪০৭২০,
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯৭১১৫৪৩৯৬

error: Sorry buddy! You can\'t copy our content :) Content is protected !!