বালিয়াকান্দিতে ওয়েলকাম পার্টির সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে

151

স্টাফ রিপোর্টার ঃ গ্রামের এক সহজ সরল গৃহবধুর কাছে ফোন করে মামি কেমন আছেন, আমি তো একটু বিপদে আছি। বনানীতে একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করেছি, আমার টাকার সমস্যা এখনই মামাকে বলে আমার এই নম্বরে ২৫শত টাকা পাঠিয়ে দেন। আমার আগের নম্বরে একটু সমস্যা হয়েছে। মামাকে নম্বরটি দেওয়ার পর সে ফোনে কথা বলে তার ছেলের কাছে টাকা চাইতে বলে, কিন্তু এতে উত্তর আসে আপনি দিলে দেন, নইলে আমি অন্য ব্যবস্থা করি। আমার এতো সময় নেই। মামার মনে সন্দেহ তৈরী হলে খোজ নিয়ে জানতে পারেন, আসলে তার ভাগ্নে না। এটি করেছে বিকাশ প্রতারনাকারী চক্র ওয়েলকামপার্টির সদস্য। এ ভাবেই রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ওয়েলকামপার্টির সদস্যরা তৎপর হয়ে উঠেছে। দিনে রাতে প্রতারনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়তই প্রতারক চক্র তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও সব সময়ই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযান চললেও বহাল রয়েছে এসব প্রতারক চক্র। এরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
জানাগেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের নারুয়া, সোনাকান্দর, বাকসাডাঙ্গী, চরঘিকমলা, মরাবিলা, ঘিকমলা, টাকাপোড়া, মধুপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে এসকল ওয়েলকামপার্টির অবাধ বিচরন। প্রতিদিনই এরা গড়াই নদীর তীরেসহ নির্জন স্থানে গিয়ে নানা কৌশলে মানুষের কাছ থেকে প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। অনেক সময় প্রতারিত কেউই বাড়তি ঝামেলা এড়াতে আইনের আশ্রয় নেন না। ফলে আরো বেচে যায় ওয়েলকামপার্টির সদস্যরা। প্রশাসনের অভিযানের আগেই টের পেয়ে যায় এসব অপরাধী চক্র। প্রশাসনের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে দামি ব্র্যান্ডের মোটর সাইকেল নিয়ে দিনে রাতে পাহাড়া দেয় একটি চক্র। তাদেরকে মাসিক বেতনও দেওয়া হয়। প্রতারনার পাশাপাশি চলে মাদক সেবনের প্রতিযোগিতা। এ প্রতারনার কাজ করে অনেকেই রাতারাতি কোটিপতি হয়েছে। আবার কেউ কেউ প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ার পর কিছুদিন জেল খেটে পুনরায় বাইরে এসেই জড়িয়ে পড়ছে প্রতারনার কাজে। কেউ কেউ ভালো হওয়ার লেবাস ধারন করে চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধ কার্যক্রম। প্রতারক চক্রের ফাঁদে কেউ পা দিয়ে প্রতারিত হবেন না। সব সময় সজাগ থাকুন ও নিরাপদে থাকুন। আগামীতে আমরা এ প্রতারক চক্রের আরো কৌশল নিয়ে পাঠকদের সচেতন করার চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here