দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে পুলিশের অভিযানে অন্ধকার গুদাম ঘর থেকে ১৪ তরুনী উদ্ধার

129

মেহেদী হাসান / শামীম শেখ ঃ দেশের সর্ববৃহৎ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৪ তরুণীকে উদ্ধার করেছে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর একদল পুলিশ নিয়ে পল্লীর নাজমা বেগম (৫৫) ও ঝর্ণা বেগমের (২৫) বাড়িতে মঙ্গলবার দিনগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে এ অভিযান চালান। এর আগে পল্লীর নাজমা বাড়ীওয়ালীর বাড়িতে বন্দীদশায় থাকা এক তরুনী (২০) তার কাছে আসা এক খদ্দেরের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রাত ১২ টার দিকে ৯৯৯ -এ ফোন করে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানায়। ৯৯৯ হতে তৎক্ষনাৎ গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীরকে বিষয়টি অবহিত করে। পুলিশ প্রথমে নাজমা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালান। সেখান থেকে ফোন করা তরুণীসহ মোট ৩ জন তরুণীকে পুলিশ উদ্ধার করে। পরে ওই তরুনীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পাশের ঝর্ণা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির অভ্যন্তরে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি অন্ধকার গুদাম ঘরে লুকিয়ে রাখা ১১ জন তরুণীকে পুলিশ উদ্ধার করে। অভিযানকালে অপরাধীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে বুধবার ৯৯৯ -এ ফোন করা তরুণী বাদী হয়ে বাড়ীওয়ালী নাজমা বেগম, ঝর্ণা বেগম ও তাদের কেয়ারটেকার আনন্দের (৪০) বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি তাদের উপর চলা অমানুষিক নির্যাতনের বিবরন তুলে ধরেছেন।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন,উদ্ধার হওয়া তরুণীদের দেশের বিভিন্ন স্থান হতে পাচারকারী চক্র নানা প্রলোভনে এ পল্লীতে এনে বিক্রি করে। এরপর তাদেরকে বিশেষভাবে লুকিয়ে রেখে তাদের দিয়ে জোর পূর্বক দেহ ব্যবসা করানো হতো। কেউ তাতে আপত্তি করলে তাদেরকে অমানুষিক নির্যাতন করা হতো বলে তরুণীরা জানিয়েছে । এ ঘটনায় জড়িত আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
অভিযানের বিষয়ে বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের হলরুমে প্রেস ব্রিফিং করেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান ।
পুলিশ সুপার জানান, সমাজের একদল ঘৃন্য মানুষ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাবা মায়ের আদরের এই সন্তানদের পাচার করে এনে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দিয়েছিলো। এদের ক্রেতা নাজমা বাড়িওয়ালীকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও অবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কাজ আর কেউ করতে না পারে সেজন্য পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এ সময় পাচারের শিকার এক কিশোরী বলেন, ৫ মাস আগে রংপুর থেকে এক পাচারকারী আমাকে এনে নাজমা বাড়িওয়ালীর কাছে দিয়ে যায়। এরপর থেকে খাওয়া দাওয়া কষ্ট দিন তিনি। প্রায় প্রতিদিনই মারপিট করতো দুই যুবক। এরপর অন্ধকার একটি ঘরে আটকে রাখা হতো। এমনকি নীজের শরির বিক্রি করা টাকাও ছিনিয়ে নিয়ে যেত তারা।
সংবাদ সম্মেলনে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাহউদ্দিন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার মজুমদার,গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর ডিআইও-১ মোঃ সাউদুজ্জামান, ডিআইও-২ প্রানবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here