জেলে বসে বঙ্গবন্ধু ভাষার জন্য অনশন করেছেনঃ তথ্যমন্ত্রী

66

স্টাফ রিপোর্টার ঃ কারাগারে বসে বঙ্গবন্ধু ভাষার জন্য অনশন করেছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু’ নামক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ সময় তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু একজন তরুণ নেতা এবং বায়ান্নর আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিলো। এ সময়ে তাকে জেলে আটক করা হয় ঠিকই। তবে কারাগারে তিনি বসে ছিলেন না। ফরিদপুর জেলে বসে তিনি ভাষার জন্য অনশন করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকাকে প্রকাশ না করা বা তাকে খাটো করে দেখানোটা একটা সময় কিছু মানুষ করেছে, এটা তাদের ভুল। সবার জানা উচিত ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের পর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সকল কাজে ব্যবহার করা শুরু হয়েছিল। এই সময়েই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। ভাষা দিবস আজ সারা পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এটা করতে পেরেছেন।
বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টি সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু জানতেন কোন কথা কখন বলতে হয়। তাইতো তিনি ৬৬ সালে ছয় দফার কথা বলেছেন। পরে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি জানতেন, ৭০এর নির্বাচনের পর পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তাই তিনি যখন স্বাধীনতার ঘোষনা দেয়ার প্রয়োজন মনে করলেন তখনই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিলো জনযুদ্ধ। এটা ছিলো জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর যুদ্ধ। সেখানে কিন্তু বাঙালি জিতেছে। বাঙালিদের জন্য কখনো কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র ছিলো না। কেউই বাঙালিকে স্বাধীন রাষ্ট্র এনে দিতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু সেটা পেরেছিলেন। এসময় তিনি বাংলাদেশের সব ভালো অর্জনকে তুলে আনতে এবং সারা বিশ্বের সবার কাছে পৌঁছে দিতে সংবাদ মাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেস ক্লাবের সেমিনার উপকমিটির আহ্বায়ক আইয়ুব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রথম নারী সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, আমরা মুজিব বর্ষ উদযাপন করছি। মুজিব জন্ম শতবর্ষে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর যে অবদান সেটা তুলে ধরতেই আমরা এই আয়োজন করেছি। স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। মুজিবের তখন তার বয়স ২৭ বছর। এই বয়সেই ভাষা নিয়ে তার গভীর উপলব্ধি ছিলো।প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তার পরিকল্পনা ছিলো। ভাষা আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তার অসামান্য অবদান ছিলো। অনেকে সেটা গোপন করেছেন। কিন্তু কারাগারের রোজনামচায় আমরা কিন্তু সেটা জেনেছি। অনেক কথা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে, তবে সেটা চাপা থাকেনি। ইতিহাসের প্রকৃত সত্য বেড়িয়ে এসেছে। তার অবদানের কারণে আজ আমরা বাংলাদেশের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছি। আজকে আইন আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার হচ্ছে। নিম্ন আদালত তার রায় লিখছে বাংলায়।
সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ। এসময় তিনি বলেন, অনেকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসক নেতিবাচক ভাবে লিখেছেন এবং দেখেছেন। সেটাকে পুঁজি করে অনেকে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে এখন আমাদের কাছে পরিষ্কার রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান কী ছিলো।আজ বাংলাদেশে বসে অনেকে বাংলাকে অবজ্ঞা করেন। তাদের প্রতি আমি আহ্বান জানাবো সব কাজে বাংলা ব্যবহার করতে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান। তিনি বলেন, আমার কাছে একটি বিষয় খুব অদ্ভুত মনে হয় যখন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা হয় তখন ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এটার প্রতিবাদ করেন এবং বলেন পুর্ব বাংলায় বাঙালিদের সংখ্যা ৫৬ শতাংশ। সুতরাং বাংলা এবং উর্দু দুটোই রাষ্ট্রভাষা করা হোক। আমরা সবাই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার ক্ষেত্রে প্রথম প্রতিবাদী ভাবতাম ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে। তবে তারও আগে বঙ্গবন্ধু এর প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি তখন ছাত্র নেতা।১৯৪৭ এর জুলাই মাসে তিনি বলেছিলেন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে হবে। সুতরাংভাষা আন্দোলন তার অবদান অনেক একথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
সেমিনারে ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও বাংলার বিশ্বব্যাপ্তি’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here