লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো চাষ দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুড়ে কেবলই সবুজের সমারোহ

61

বসির আহাম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায় শুধুই বোরো ক্ষেত। মাঠের পর মাঠ ধান ক্ষেত কৃষকের বুক জুড়িয়ে দিচ্ছে। কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পশ্চিমের ৬ জেলায় লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। আগাম চাষ করা ধান ক্ষেত গুলোতে শীষ বের হতে শুরু করেছে। বাকি ক্ষেত গুলো থোড় অবস্থায় রয়েছে। মাস খানেকের মধ্যে আগাম বোরো ধান কাটা শুরু হবে বলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সুত্রে জানা যায়, এবার যশোর জেলায় এক লাখ ৫৭ হাজার ৪৩৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ৮০ হাজার ২৮৪ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ৩৭ হাজার ৩৫০ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩৫ হাজার ৭৪০ হেক্টরে, মেহেরপুর জেলায় ১৯ হাজার ১০০ হেক্টরে ও কুষ্টিয়া জেলায় ৩৫ হাজার ১৩৬ হেক্টরে বোরো চাষ হয়েছে। এ ৬ জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৭৮০ হেক্টরে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। ধানের দাম বেশি হওয়ায় চাষিরা বোরো চাষে ঝুঁকেছে। এখন পর্যন্ত বোরো ক্ষেতের অবস্থা ভাল বলে চাষিরা জানায়। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ বেশি লাগছে। এতে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বোড়াই গ্রামের কৃষক আফন উদ্দীন জানান, তিনি এবার আড়াই বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। ধান থোর অবস্থায় আছে। তাদের এলাকায় বোরোর অবস্থা ভাল। মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। মাঝে হালকা পোকার আক্রমণ হয়েছিল। এখন নেই। ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। ফসলের অবস্থা ভাল। বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ খরচ বেশি লাগছে। সেচ যন্ত্রের মালিকরা বিঘা প্রতি সেচ দিতে সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাহেদুল আমিন জানান, এবার পশ্চিমের জেলা গুলোতে বোরো ধানের অবস্থ ভাল। আগাম চাষকৃত ধানে শীষ বের হয়েছে। এক মাসের মধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হবে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here