• মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কালুখালীর চরাঞ্চলে জুয়ায় হেরে স্ত্রী-কন্যাকে হত্যা : মেম্বরের ভাষ্য কালীর দোষ ! গোয়ালন্দে হাতেনাতে মোটরসাইকেল চোর আটক রাজবাড়ীতে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের উল্লাস বাংলাদেশ নিউট্রিশন অ্যাক্টিভিটি মধুখালীতে ওয়াশ বিষয়ক কর্মশালা ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা সেনেটারি প্যাডের ভেন্ডিং মেশিন উদ্ভাবন বালিয়াকান্দিতে ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ বালিয়াকান্দিতে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের অবহিতকরণ সভা বালিয়াকান্দিতে পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করে চাঁদাবাজিকালে গ্রেফতার ৩ জন গুড়ি গু‌ড়ি বৃ‌ষ্টি‌তে রাজবাড়ী‌তে বিপর্যস্থ জনজীবন, দৌলত‌দিয়ায় যানবাহ‌নের সা‌রি বঙ্গবন্ধু সারাজীবন গঠনমূলক রাজনীতি করেছেন: ড. কলিমউল্লাহ  

একটি উদ্ভিদের পরিচিতি ও উপকার ——-একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. নিম হাকিম

প্রতিবেদকঃ / ২৭৭ পোস্ট সময়
সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১

মোঃ আমিরুল হক ঃ চিনলে জরি আর না চিনলে হয় রান্না ঘরের খড়ি। এই মহা মূল্যবান কথাটা বললেন রাজবাড়ী জেলার কৃতি সন্তান নিম গবেষক ও পরিবেশবিদ ড. মোঃ নিম হাকিম। নিম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে নিম গবেষক ড. নিম হাকিম বলেন, প্রথমে আমাদের নিমের পরিচিতি জানা প্রয়োজন। নাম বাংলায় নিম, সংস্কৃতিতে নিম্ব, পিচুমর্দ ও হিন্দীতে নিম। নিমগাছ আমাদের অনেকেরই চেনা। বিশেষভাবে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই নিম পাতা বা নিমের দাঁতন অনেকেই ব্যাবহার করেছেন। বলা বাহুল্য এটা তাক্তরস যুক্ত। নিম গাছের হাওয়া স্বাস্থ্যপ্রদ বলে আমাদের সমাজের অনেকেই প্রয়োজনে বা সখ করে বাড়ীর আনাচে কানাচে নিম গাছ রোপন করে থাকেন। ঔষধে নিম গাছের পাতা, ছাল ও ফল ব্যাবহার হয়ে থাকে। ঝতুরাজ বসন্ত ফাল্গুন চৈত্র মাসে নিম গাছে কচিপাতা অরুচিনাশক ও বিশেষ উপকারী। এটা লঘু, কটু, বিপাক, শীতবির্য সমন্বিত অহৃদ্য বায়ুনাশক বা অগ্নিদিপক।
নিম কুষ্ঠ, ব্রর্ণ, কাশ, জ্বর, কফ, ক্রীমি, পিত্ত, বমি, প্রমেহ অরুচি ও তৃষ্ণানাশক বলে পরিচিত। নিম পাতার গুন সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা চক্ষুর হিতকারী, কটুবিপাক ও বায়ুবর্ধক। এটা বিষদোষ, পিত্ত, ক্রিমি ও সর্বাবিধ অরুচিনাশক। নিম ফলেও রয়েছে অধিক গুনাগুন যা তিক্ত রসযুক্ত, কটুবিপাক, লঘু উষ্ণবীর্য সমন্বিত শ্নিগ্ধ ও ভেদক। এটা অর্শ, গুল, কুষ্ঠ, ক্রিমি ও প্রমেহনাশক বলে পরিচিত।
এই উদ্ভিদ দ্বারা চিকিৎসা সম্পর্কে ড. নিম হাকিম বলেন, খোদ পাঁচড়া হলে নিম পাতার সিদ্ধ পানিতে ক্ষতস্থান ধুতে হবে। এবং পরে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ একত্রে পেষণ করে খোদ পাঁচড়ায় প্রলেপ দিলে পোকা মরে যায় এবং খোদ পাঁচড়া নিবারিত হয়। পেটে ক্রিমি হলে এক আনা পরিমানে নিমছাল চূর্ণ সৈন্ধব লবণসহ এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকালে সেবন করলে ক্রিমি থেকে নিরাময় হবে। জ্বর ও তৃষ্ণায় নিম ছালের ক্বাথ সেবন করলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। জ্বর ও তৃষ্ণা নিবারিত হয়। কাশি হলে এক তোলা পরিমান নিমের ক্বাথ মধুসহ প্রতিদিন দুইবার সেবন করলে তিন দিনমধ্যে কাশি নিবারিত হয়। পিত্তদোষে প্রতিদিন এক তোলা পরিমান নিমের ক্বাথ সেবন করলে এক সপ্তাহের মধ্যে পিত্তঘটিত দোষ দূরীভূত হয়। উপদংশজনিত ক্ষত বা গরমীর ঘা হলে কিছু নিমপাতা পানিতে ভালো করে ধুয়ে পেষন পুর্বক রস বেড় করে এক ছটাক রস এক ছটাক গর‌্যঘৃত একআনা মুদ্রাশঙ্খচূর্ণ, চার আনা তুঁতে এবং একটি দগ্ধজাঙ্গী হরীতকী চুর্ণ করে তার সাথে মিশিয়ে ঘুঁটের আগুনে আধ ঘন্টাকাল জাল দিতে হবে এবং অনবরত নারতে হবে। তারপর সেই মলম ন্যাকরায় মেখে গরমীর স্থানে সাত আটবার লাগালে গরমী ঘা যতই প্রবল হোক না কেন অবশ্যই নিবারিত হবে। বসন্তে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ পেষন পূর্বক বসন্তের গুটিতে প্রলেপ দিলে ২/৩ দিনের মধ্েযই বসন্তের গুটি গুলো শুকিয়ে যায়। অপরদিকে তিনি নিমের আরো গুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, কখনো ফোঁড়া ফেটে গেলে নিমপাতা ও গব্যঘৃত একত্র মিশিয়ে আগুনে তাপ করে সেই ঘৃত ফোঁড়ায় লাগালে পুঁজ বাহির হয়ে যায় ও ফোঁড়া শুকিয়ে যায়। এ ব্যাতিতেও নিম এর বহু গুণাগুণ রয়েছে। যা লিখে বা বলে শেষ করবার নয়। আমি সারা দেশের মানুষের উদ্েযশে বলি আপনারা সকলে গাছের উপর বিশ্বাস নিয়ে ভেজষ চিকিৎসায় মনোনিবেশ করুন। তাহলেই শুধু রাসায়নিক ঔষধ এর ব্যাবহার কমানো সম্ভব হবে।
একটি বিষয় বলতে হয়, রাসায়নিক জাবতীয়ই কোন না কোন পার্শপ্রতিক্রীয়া আছে কিন্তু ভেজষ চিকিৎসায় কোন পার্শপ্রতিক্রীয়ার সম্ভবণা নেই। আধুনিক যুগের মানুষ আবার সনাতন যুগের ভেজষ চিকিৎসার দিকে ফিরে যাচ্ছে বলে জানান ড. নিম হাকিম।
তিনি বলেন, আমি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর শান্তি মিশনে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি ভেজষ ঔষধ, ভজষ প্রসাধনী, ভেজষ ফুড্স এর মতো অনেক সামগ্রী। তার জন্য প্রয়োজন এলাকার সকলের সহযোগীতা। আমি সমগ্রীক সহযোগীতা পেলে এখানেই গড়ে তুলতে পারবো ভেজষ বিশ্ববিদ্যালয়। এখান থেকে গাছ গাছড়ার উপর শিক্ষা গ্রমণ করে সারাবিশ্বে ভেজষ চিকিৎসায় অবদান রাখবে আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা।
গতকাল ২০ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ডাস এর শান্তি মিশনে বসে বিশিষ্ট ভেজষবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ড. নিম হাকিম একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার গ্রহনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সোনার বাংলা সমাজ কল্যান ও ক্রীড়া সংসদের আহ্বায়ক এস, এম হেলাল খোন্দকার, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নুরুল ইসলাম নুরু, মোঃ আবু বক্কার সিদ্দিক ও মোহাম্মদ আলী খান প্রমূখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
খান মোহাম্মদ জহুরুল হক

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ
রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন (নীচ তলা),
কক্ষ নং-৩, রাজবাড়ী-৭৭০০।

Contact us: editor@dailyrajbarikantha.com

প্রকাশনাঃ
সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়নবী সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত এবং দক্ষিণ ভবাণীপুর, রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত।

মোবাইল- ০১৭১১১৫৪৩৯৬,
বার্তা বিভাগ- ০১৭৫২০৪০৭২০,
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯৭১১৫৪৩৯৬

error: Sorry buddy! You can\'t copy our content :) Content is protected !!