• শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
Headline
গোয়ালন্দে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর মাঝে পুলিশের ঈদ সামগ্রী বিতরণ ঝিনাইদহে দুই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে জরিমানা ঝিনাইদহে ৫’শ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ কালীগঞ্জে বেঁদে পল্লীর ৫ শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ বাড়ি ফিরছে মানুষ দৌলতদিয়ায় ঘাটে উপচে পড়া ভীর উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি রাজবাড়ীতে গত ২৪ ঘন্টায় ১৬জন করোনা আক্রান্ত রাজবাড়ীতে ফল দোকান ও গ্যাসের দোকানে মোবাইল কোর্টের অভিযান প্রায় ২শ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে রাজবাড়ীর বড় মসজিদ পাংশায় র‌্যাবের অভিযান : ৫৯০ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী মজনু গ্রেপ্তার চুরি হওয়ার পর বালিয়াকান্দির স্লুইস গেট বাজার জামে মসজিদে কোরআন শরীফ প্রদান

পাংশা-কালুখালীর অসংখ্য শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষ সুদে কারবারি মিঠুর কাছে জিম্মি

Reporter Name / ৯১৮ Time View
Update : শনিবার, ১ মে, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ঃ গ্রামের হাট বাজারে ও বিভিন্ন এলাকায় মেলা পার্বনে যাদু প্রদর্শণীর নামে বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়ে নিয়ে এসে অশ্লীল নাচগান করাই ছিল যার মূল পেশা। আর সেই সাথে এলাকার বিপদ গ্রস্থ মানুষকে তার্গেট করে সুদে টাকা দিয়ে চড়া হারে সুদের টাকা গ্রহণ করে আসছিল বেশ পূর্ব থেকেই। এলাকার মানুষ তাকে এক নামেই চেনেন ”সুদে মিঠু বলে”। মিঠুর পুরো নাম, মোঃ নজরুল ইসলাম। সে রাজবাড়ীর পাংশা পৌর শহরের বিষ্ণুপুর এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে। নজরুল ইসলাম মিঠু সুদে কারবারির কারণে ও একাধিক বিবাহ করায় নানা সমস্যার কারনে এবং নিজের সুদে ব্যবসা ভালমত পরিচালনা করতে রাজবাড়ী শহরে বাসা ভাড়া নেয়। ওই বাসায় কুষ্টিয়ার এক মেয়েকে বিয়ে করে তার মাধ্যমেই সুদে কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মিঠুর রয়েছে ৩টি সংসার। একটি বরিশাল,একটি রাজবাড়ী ও একটি রয়েছে পাংশাতে। প্রতিটি ঘরে রয়েছে সন্তানাদি।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রাজবাড়ীর পাংশা ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে সুদে টাকা দিয়ে থাকেন, এরুপ বেশ কয়েকজন শিক্ষককের নামের তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে, সেই সাথে তাদের সাথে করা অন্যায়ের কিছু প্রমানাদিও এ প্রতিনিধির হাতে গচ্ছিত রয়েছে। পাংশা উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি বিপদে পড়ে সুদে মিঠুর কাজ থেকে ২ লক্ষ টাকা সুদে নিয়েছিলাম এখন এ প্রর্যন্ত মিঠুকে ৮ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছি কিন্তু এখনও আমাকে টাকার জন্য নানা ভাবে হয়রানী করে চলছে। মিঠু বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতাদের ও প্রশাসনের কর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ভয় ভীতি প্রর্দশন করে আসছেন।
স্থানীয় একটি সুত্র জানিয়েছেন, নজরুল ইসলাম মিঠু, পাংশা পৌর মেয়র ওয়াজেদ আলী মন্ডলের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করে নিরবে সুদে কারবার করে যাওয়ার পায়তারায় মশগুল। সেই সাথে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর সোহরাফ হোসেন প্রত্যক্ষভাবে নজরুল ইসলাম মিঠুকে মদদ দিয়ে আসছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। যারা সুদে টাকা নিয়ে দিতে পারছে না তাদেরকে কৌশলে পৌর সভায় শালিসের মাধ্যামে টাকা আদায় করার অভিযোগও রয়েছে।
তবে পাংশা পৌর মেয়র ওয়াজেদ আলী মন্ডল জানিয়েছেন, কোন সুদে মিঠুর সাথে আমার পরিচয় নেই যদি কেউ আমার নাম ভাঙ্গায় এটা আমার করার কিছু নেই। তবে সু নিদিষ্ট ভাবে বিষয়টি জানতে পারলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠান ও এলাকার ঠিকানা প্রকাশ না করার শর্তে এই নাম গুলো জানাগেছে, সহিদুর রহমান, নাজমুল হোসেন, আরশেধ, আব্দুর রাজ্জাক, সুমন, নজরুল, আলমগীর হোসেন, আব্দুস সালাম, তাজুদ্দিন,আব্দুল আজিজসহ আরো অনেকের নাম উঠে এসেছে।
একটি নির্ভর যোগ্য সুত্র নিশ্চিত করেছেন, পাংশা মিঠুর এক কথিত জামাই এর মাধ্যমে তিনি এ সুদে কারবার করে চলছেন। জামাই তাকে এ কাজে সহযোগিতা করে আসছেন। এছাড়াও নজরুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে রয়েছে মানি লন্ডারিং করার অভিযোগ, এদিকে একটি অভিযোগে থেকে জানাগেছে এক সময় তার সহযোগী হিসাবে কাজ করতো জনৈক খান নামের এক ব্যাক্তি। পরবর্তীতে তার সরলতার সুযোগ নিয়ে তার বাড়ীতে যাতায়াত করার সুবাদে তার ছেলে বউয়ের সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয় এই মিঠু। পরবর্তীতে কৌশলে তাকে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যামে মানুষকে সুদে টাকা নিতে প্রলব্ধু করে কিছু টাকা দেন,পরে ওই গ্রাহকের সাথে ঝামেলা করে চেক দিয়ে মামলা করেন দেশের বিভিন্ন আদালতে বিশেষ করে কুষ্টিয়া আদালতে এ মামলা করে থাকেন সুদে মিঠু। পরবর্তীতে মামলার ভয় দেখিয়ে স্থানীয়ভাবে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তা রফাদফা করে এখনও বহাল তবিয়তেই করে চলছেন এই কারবার। মহামারি করোনার মধ্যেই থেমে নেই এই সুদে কারবারির রমরমা বানিজ্য। এদিকে চেক ডিজঅনার করতে পাংশা একটি ব্যাংকের ম্যানেজারের সাথে রয়েছে তার গোপন আতাত, ওই ব্যাংক ম্যানেজার মাঝে মধ্যেই ব্যাংকের উর্দ্ধতন কর্তারা আসলে কৌশলে সুদে মিঠুকে খবর দেন এবং তাদের সাথে ভোজন ও সখ্যতা করিয়ে দিয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন ম্যানেজার। এসব বিষয়ে ব্যাংকের অনান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ম্যানেজারের এমন কর্মকান্ডের ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, মিঠুর মত একজন সুদে কারবারির সাথে এরুপ সর্ম্পকই বলে দেয় কিভাবে ব্যাংকের লোকদের সাথে মিলিত হয়ে এ কারবার করে চলছেন। মিঠুর নিজের রয়েছে দামী একটি পাজোরো গাড়ী ও একাধিক মোটর সাইকেল, ব্যাংকে রয়েছে কয়েক কোটি টাকা, খোঁজ নিয়ে জানাগেছে নেই তার আয়করের কোন ফাইল। দামী গাড়ী ব্যাংকে কোটি টাকা এর উৎস কোথায়, বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিরা খতিয়ে দেখলেই বের হয়ে আসবে থলের বিড়াল। নেই কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, করেন না কোন চাকুরী। এদিকে পাংশা সুনামধন্য ২টি ব্যাংকের ম্যানেজারের সাথে গোপন আতাতের মাধ্যমে নানা অপকর্ম করার অভিযোগ উঠেছে, যেমন ইচ্ছে মত চেক ডিজ-অনার করা, ইচ্ছে সেই মত চেকে টাকার অংক বসানোর মত কাজ করে দিচ্ছেন এ সকল বিষয়ে কথা বলতে নজরুল ইসলাম মিঠুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি তবে তার ফোন দিয়ে পাংশা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোহরাফ মন্ডলকে দিয়ে সাফাই গাওয়াতে ব্যস্ত ছিল। পরপর্তীতে মিঠুর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ না করে তার ৩য় স্ত্রীর দিয়ে ফোন ধরিয়ে বলেন, সে বাসায় নেই। তবে কি প্রয়োজন বলেন, এমন প্রশ্ন করলে তাকে তার স্বামীর ব্যবসা মানে সুদে কারবার কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের স্টক মালের ব্যবসা রয়েছে, কোথায় এমন প্রশ্নে বলেন, সোনাপুর বাজারে তবে দির্ঘদিন ধরে সোনাপুর বাজারে খোজ নিয়ে তাদের ব্যবসার কোন হদিস মেলেনি। মিঠুর স্ত্রী আরো বলেন, কিছু মানুষ বিপদে পড়লে আমরা টাকা দেই, আমার তো জোড় করে কাউকে টাকা নিতে বাধ্য করিনি,এদিকে মিঠু একাধীক মানুষের বিরুদ্ধে চেক ডিজ অনার করে মামলা দিয়েছেন। আবার মিঠুর বিরুদ্ধেও চেক ডিজ অনারের মামলা রয়েছে বলে জানাগেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
খান মোহাম্মদ জহুরুল হক

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ
রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন (নীচ তলা),
কক্ষ নং-৩, রাজবাড়ী-৭৭০০।

Contact us: editor@dailyrajbarikantha.com

error: Sorry buddy! You can\'t copy our content :) Content is protected !!