• শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের কমিটিতে সুযোগ দিতে হবে :সেতুমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ গুতেরেস মহাসড়ক থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাত দলের ৩ সদস্য আটক কালুখালীতে দুই দিন ব্যাপী পুষ্টি বাগান প্রশিক্ষণ বালিয়াকান্দিতে হত্যা মামলার আসামী অটোভ্যানসহ ২জন গ্রেফতার কালুখালীতে আইসিভিজিডি অবহিত করণ সভা বহরপুর ক্যামব্রিয়ান আইডিয়াল স্কুল এন্ড ক্যাডেট একাডেমি শিক্ষার মানোন্নয়নে বদ্ধপরিকর দৌলতদিয়ায় এক কাতলের দাম ৩৬ হাজার ৩৫০ টাকা বালিয়াকান্দি উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা পাংশায় র‌্যাব সদস্যদের হাতে হয়রানির প্রতিবাদে সুষ্টু তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

বালিয়াকান্দি কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঋণ প্রদানে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ

প্রতিবেদকঃ / ৪৩৪ পোস্ট সময়
সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঋণ প্রদানের নামে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কৃষি ব্যাংক রাজবাড়ী আঞ্চলিক কর্মকর্তার কাছে সম্প্রতি লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। অনুসন্ধানেও মিলেছে ওই অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের সত্যতা। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তার নাম তৈয়বুর রহমান। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি ব্যাংকে লোন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নয় জন ভুক্তভোগির পক্ষে মোতাহার মন্ডল এই অভিযোগ করেন। মোতাহার মন্ডলের বাড়ী বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের টাকাপোড়া গ্রামে ।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পাওয়ার পরেই মাঠ পর্যায়ের ওই কর্মকর্তা দালালদের মাধ্যমে ঋণ গ্রহিতাদের খবর দেন। ঋণ প্রত্যাশীর পক্ষ থেকে প্রতিবাদের আশঙ্কা না থাকলে তিনি নিজেই ঘুষের কথা বলেন। আর প্রতিবাদ বা ঝামেলার আশঙ্কা থাকলে তিনি দালালদের মাধ্যমে আলোচনা করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঋণ প্রদানের জন্য অগ্রিম ঘুষ নেওয়া হয়। নতুবা ঋণের টাকা তোলার পর তাথেকে উৎকোচের অংশ কেটে রাখা হয়। এবিষয়ে স্থানীয় ৯ জন ভুক্তভোগীর পক্ষে মোতাহার নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ১৪ লাখ ৩০ হাজার ঋণ দিয়ে তৈয়বুর দুই লাখ ৩১ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
বালিয়াকান্দি কৃষি ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে শাখাটিতে ১৭০ জনকে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা প্রণোদনা ঋণ দেয়া হয়েছে, ৯৭ জনকে জামানাতবিহীন দেয়া হয় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ১৪৬৮ জনের মাঝে শষ্য ঋণ ক্যাটাগরিতে ১৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, ১০ জনকে মসলা ঋণ বাবদ দেয়া হয় ২০ লাখ টাকা। এছাড়াও উক্ত শাখাটিতে ৩৮ জন ঋণ খেলাপি আছে, যাদের খেলাপির পরিমাণ ৬৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পদে পদে হয়রানীর পর ঋণের বড় একটা অংক খরচ হওয়ায় লোনের টাকা খুব একটা কাজে আসছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। তারা বলেছেন উর্দ্বতন দপ্তর থেকে নজরদারী না থাকায় তৈয়বুর রহমান প্রায় ১০ জন দালালের মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। কোন কোন ভুক্তভোগী বলেন, ব্যাংকটিতে সিসি ক্যামেরা আছে, একই ব্যক্তি প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা কর্মকর্তার পাশে বসে থাকে সেটি কি কারো চোখে পরে না? সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ করেন তারা।
অভিযোগকারী মোতাহার মন্ডল বলেন, আমি কৃষিকাজ করি। সমস্যায় পড়ে ঋণ নিয়েছি। আমার অনেক আত্মীয়-স্বজনও ঋণ নিয়েছে। ব্যাংকে দালালের মাধ্যম ছাড়া কোনো ঋণ দেওয়া হয়না। দেড় লাখ টাকা ঋণ নিতে আমার কাছ থেকে মোট ২৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো: আ: রহমান অভিযোগ করে বলেন, পূর্বের লোন ছিলো। কয়েকমাস আগে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দেড় লাখ টাকা রিকভারী করেছি। কর্মকর্তা তৈয়বুর রহমান স্ট্যাম্পসহ বিভিন্ন ব্যয় দেখিয়ে আমার নিকট কয়েক ধাপে টাকা নেয়। সব মিলিয়ে ঋণ পেতে আমার ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সব টাকা তৈয়বকেই দিতে বাধ্য হই। আগে জানলে লোনটি রিকভারী করতাম না, লোনটি নিয়ে আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।
ভুক্তভোগী আ: লতিফ মন্ডল বলেন, স্থানীয় কয়েকজন দালালের বুদ্ধিতে ব্যাংকে গিয়ে তৈয়বুর রহমানের সাথে কথা বলি। প্রথমে খুব ভালো আচরণ করে তৈয়ব আমার বাড়ীতে আসে এবং গরু থাকার স্থান পাকা করার জন্য বলে। ১০-১২ হাজার টাকা খরচ করে পাকা করার পর তৈয়ব আর পাত্তা দেয় না। প্রায় দুই মাস খুব হয়রানীর পর দালালের মাধ্যমে লোন পাস হয়। আমার কাগজপত্র ঠিক করা বাবদ তৈয়বকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আর লোন হাতে পাওয়ার পর তাকে আরও ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আমার মোট খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।
আরেক ভুক্তভোগি আজিজুল ইসলাম জানান, তিনি মাস তিনেক আগে দুইলাখ টাকা লোন নিয়েছেন। এতে দুইজন দালাল সহযোগিতা করে। কারন দালাল ছাড়া কোনো লোন পাওয়া যায়না। লোন হওয়ার দিন দুপুরে একটি হোটেলে তৈয়বুরসহ সবাই উপস্থিত ছিল। সেখানে আমাকে টাকা পরিশোধ করতে হয়। মোট ৩১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
বালিয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এম এমরুল আহসান পুলক বলেন, ওনার (তৈয়বুর) আচার-আচরণ ভালো না। তিনি সবাইকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করেন। এই কাগজ সেই কাগজ বলে ঘুরাতে থাকেন। আন্ডার লেনদেন না হলে লোন দেন না। ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো কাজ করেন না।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা তৈয়বুর রহমান বলেন, অভিযোগকারী ৯ জনের স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগ দিয়েছিল। যাদের নাম ব্যবহার করেছে তারা কেউই অভিযোগ সম্পর্কে জানেন না। দালালের প্ররোচনায় তিনি অভিযোগ করলেও পরবর্তীতে ভূল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে অভিযোগ তুলে নিয়েছেন।
কৃষি ব্যাংক বালিয়াকান্দি উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক প্রেমাংশ বিশ^াস অভিযুক্ত কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, এসব অভিযোগের বেশিরভাগই দালালদের ।
কৃষি ব্যাংক রাজবাড়ী আঞ্চলিক শাখা ব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান বলেন, সোমবার সকালে অভিযোগকারী নিজে তার কার্যালয়ে এসে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, এবিষয়ে কোন তদন্ত কমিটি গঠন করা ঠিকনা। তারপরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। লকডাউনের পর এবিষয়ে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করবে। এছাড়া প্রধান কার্যালয় থেকেও এতদ্বসংক্রান্ত আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
খান মোহাম্মদ জহুরুল হক

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ
রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন (নীচ তলা),
কক্ষ নং-৩, রাজবাড়ী-৭৭০০।

Contact us: editor@dailyrajbarikantha.com

প্রকাশনাঃ
সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়নবী সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত এবং দক্ষিণ ভবাণীপুর, রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত।

মোবাইল- ০১৭১১১৫৪৩৯৬,
বার্তা বিভাগ- ০১৭৫২০৪০৭২০,
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯৭১১৫৪৩৯৬

error: Sorry buddy! You can\'t copy our content :) Content is protected !!