• বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

রাজবাড়ীর বিভিন্ন হাট-বাজারে ৪২কেজিতে ফসলের মন!

প্রতিবেদকঃ / ৩৬৮ পোস্ট সময়
সর্বশেষ আপডেট শনিবার, ১১ জুন, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার : সারা দেশে ৪০ কেজিতে মন হলেও রাজবাড়ী জেলার হাট-বাজার গুলোতে এক মন কৃষি পণ্য বিক্রি করতে কৃষককে দিতে হয় ৪২ কেজি। আর পণ্যের পরিমাণ ৫০ কেজি হলে কৃষক দাম পায় ৪৭ কেজির। রাজবাড়ীর হাট বাজার গুলোতে ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি কৃষক। বিষয়টি অনিয়ম হলেও রাজবাড়ীতে এটি নিয়মে পরিনত হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ বছরের পর বছর প্রতারিত হলেও প্রশাসনের কোন তৎপরতা নেই।
জানাযায়, জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রায় ৪০টা হাট বাজার রয়েছে। কৃষি প্রধান এ জেলায় পেঁয়াজ, পাট ও ধান প্রধান ফসল। জেলার ছোট বড় সব হাট-বাজারে কৃষক কোন পণ্য বিক্রি করতে গেলে প্রতিমনে তাকে দুই কেজি বেশি দিতে হয়। স্থানীয় ভাষায় এটিতে ধলতা বলে। আর পণ্যের পরিমাণ ৪০ কেজি হলে কৃষক দাম পায় ৩৮ কেজির। কৃষকের পণ্য যদি ৫০ কেজি হয় তাহলে সেখান থেকে ধলতা তিন কেজি বাদ দেয়া হয়। পণ্যের পরিমাণ ৬০ কেজির বেশি হলে বাদ যায় ৪ কেজি। ধলতার বিষয়টি সম্পূর্ণ অনিয়ম হলেও রাজবাড়ীর বাজারগুলোতে এটি নিয়মে পরিনত হয়েছে। প্রতিবাদ করলে কৃষকরা ব্যবসায়ীদের দ্বারা লাঞ্চিত হয়। কৃষকদের অভিযোগ প্রশাসনের ভুমিকার অভাবেই ব্যবসায়ীরা তাদের উপর জুলুম চালাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, পাংশা উপজেলার মাছপাড়া, বনগ্রাম, বৃত্তিডাঙ্গা, পাট্টা, বাহের মোড়, পাংশা পুরাতন বাজার, বাগদুলী, কালুখালী উপজেলার মৃগী, কালুখালী, খানগঞ্জ, বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর, বহরপুর, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ীর সদর উপজেলার কোলারহাট, খানখানাপুরসহ সব বাজারেই একই পরিস্থিতি।
বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর পেঁয়াজ বাজারে গিয়ে দেখাযায়, ১২০০ টাকা মন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রতিমনে দুই কেজি ধলন আর ১০ টাকা খাজনা দিতে হয় কৃষককে। এছাড়া দেখা যায় বাজারের পরিছন্নতা কর্মী কৃষকের পেঁয়াজের বস্তা থেকে পেঁয়াজ তুলে নিজের বস্তায় রাখছে। ব্যবসায়ীদের ঘরগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বস্তায় ৪২ কেজি ৯০০ গ্রাম হলেও কৃষককে মূল্য দিচ্ছে ৪০ কেজির। এসব নিয়ে কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে তর্ক হলেও কৃষককে ৪০ কেজির দাম নিতে হচ্ছে।
পেঁয়াজ চাষী মুরাদ হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীরা আমাদের সাথে ডাকাতের মত ব্যবহার করে। পেঁয়াজ, পাট, ধান যা কিছু বিক্রি করবো ৪২ কেজিতে মন। কথা বললে মারতে আসে। খারাপ ব্যবহার করে। আবার মন প্রতি ১০ টাকা করে খাঁঁজনা দিতে হয়। বর্তমানে ফসলের দাম কম, তারপর ব্যবসায়ীরা জুলুম করলে আমরা বাঁচবো কি করে।
সুজন শেখ বলেন, যে হাটেই যাবো সেখানেই ৪২ কেজিতে মন। আসলে আমরা জিম্মি। আর প্রশাসন এসব দেখে না। দেখলে তো তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করতো।
ব্যবসায়ী রিয়াজ মন্ডল বলেন, আমাদের হাটের ব্যবসায়ী সমিতি থেকে নির্ধারণ করা প্রতিমনে দুই কেজি ধলতা। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম চলে আসছে তাই আমরা নিচ্ছি। আর শুধু এ হাট না জেলার সব হাটেই একই নিয়ম।
সোনাপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিঞা বলেন,প্রতিমনে দুই কেজি ধলতা এমন নির্দেশনা আমরা দেয়নি। আর এই দুই কেজি ধলতা দেয়া নিয়ে প্রতিহাটেই ঝামেলা হয়। কৃষকরা আমার কাছে বিচারও দেয়। অনেক আগে থেকেই এই নিয়ম চলে এসেছে। আমিও চাই দুই কেজি ধলতা বাতিল হোক। বিষয়টি ই্উএনও মহোদয়কেও জানিয়েছি।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান বলেন, প্রতিমনে দুই কেজি ধলতার বিষয়টি আমি জানি। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি প্রচলিত এজন্য বন্ধ করতে একটু সময় লাগবে। তবে প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের এবিষয়ে বলা হয়েছে যে বাজারের ইজারাদার, ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসে সমাধান করার জন্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
খান মোহাম্মদ জহুরুল হক

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ
রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন (নীচ তলা),
কক্ষ নং-৩, রাজবাড়ী-৭৭০০।

Contact us: editor@dailyrajbarikantha.com

প্রকাশনাঃ
সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়নবী সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত এবং দক্ষিণ ভবাণীপুর, রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত।

মোবাইল- ০১৭১১১৫৪৩৯৬,
বার্তা বিভাগ- ০১৭৫২০৪০৭২০,
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯৭১১৫৪৩৯৬

error: Sorry buddy! You can\'t copy our content :) Content is protected !!