• মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

রাজবাড়ীতে চারলেন সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুাতিক খুঁটি রেখেই কাজ সম্পন্ন

প্রতিবেদকঃ / ১১ পোস্ট সময়
সর্বশেষ আপডেট শুক্রবার, ২৯ জুলাই, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী শহরের পৌর এলাকায় চারলেনবিশিষ্ট আঞ্চলিক মহাসড়কে মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই সম্পন্ন করা হয়েছে। পাঁচবার মেয়াদ বাড়ানোর পর সম্প্রতি কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। যদিও এখন কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। রাস্তার মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশ্বস্ততা উন্নীতকরন প্রকল্পের (গোপালগঞ্জ অঞ্চল) আওতায় রাজবাড়ী-কুস্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজের দরপত্র আহŸান করা হয়। সড়কের তিনটি অংশে ভিন্ন ভিন্নভাবে দরপত্র আহŸান করা হয়। তিন অংশের মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৩০২ কোটি ২৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। সড়ক চওড়া হবে ৩৪ ফিট। তবে পৌরসভার চার কিলোমিটার চারলেনবিশিষ্ট হয়। রাস্তার মাঝখানে রাখা হয়েছে সড়ক বিভাজক।
শহরের শ্রীপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে চরল²ীপুর আহমদ আলী মৃধা কলেজ এলাকা পর্যন্ত রাস্তা চারলেনে উন্নীত করা হয়। এই কাজের দায়িত্ব পায় স্পেকটা ইনঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন। ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ি ২০১৯ সালের ২৬ জুন কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া রাস্তার দুইপাশে ড্রেন নির্মাণ করা হবে। রাস্তার উত্তরপাশে ড্রেন হবে ৪ কিলোমিটার এবং দক্ষিণপাশে ড্রেন পাশে হবে পৌণে পাঁচ কিলোমিটার (৪.৭)। ড্রেন নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে স্পেকটা ইনঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন এবং ওয়েস্টার কনস্ট্রাকশন এন্ড শিপিং ও রানা বিল্ডার্স। পুরো কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। রাস্তার কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে মোট পাঁচবার। তবে সড়ক বিভাজক স্থাপন ও ড্রেনের কাজ পুরো সম্পন্ন করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের শ্রীপুর বাস টার্মিনাল থেকে বড়পুল মোড় পর্যন্ত উভয়পাশে রাস্তার মূল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে সড়ক বিভাজক স্থাপনও সম্পন্ন হয়েছে। বড়পুল থেকে চরল²ীপুর পর্যন্ত রাস্তায় বিভাজক এনে রাখা হয়েছে। স্টেডিয়াম এলাকায় বিভাজক সারি রাখা হয়েছে। তবে নতুন বাজার ও তার পরের অংশে কোথায়ও এক সারি আবার কোথায়ও দুই সারি বিভাজক রাখা হয়েছে। ড্রেনের কাজও মাঝেমাঝে করা হয়নি। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে ড্রেন থেকে অন্তত তিন ফুট ভেতরে রাস্তার মধ্যে বিদ্যুতের একটি খুঁটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া পুরো রাস্তায় কোথায়ও বিদ্যুতের খুঁটি ড্রেনের ভেতরে কোথায়ও ড্রেনের বাইরে বসানো হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় ও দুপুর আড়াইটার দিকে চরল²ীপুর থেকে বড়পুল পর্যন্ত শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা যায়নি।
মোটর সাইকেল আরোহী অর্নিবান চক্রবর্তী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু মানুষের মনুষ্যত্বের কতটুকু উন্নয়ন হয়েছে বা হচ্ছে তা ভাবার বিষয়। দিন দিন নৈতিকতা বোধ করে যাচ্ছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে যেকোনো কিছুতেই আমরা মুনাফা খুঁজি। দেশপ্রেম বা দেশের প্রতি নিজের দায়িত্ববোধ এখন বক্তৃতা মঞ্চে, টকশোতে। এছাড়া দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের টনক নড়ে। সবার নজর আসে। তদন্ত কমিটি হয়। সবমিলিয়ে হুমায়ুন আজাদ স্যারের সেই কথাটি খুব মনে পড়ে, ‘আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?’
স্পেকটা ইনঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন স্থানীয় প্রতিনিধি আমজাদ হোসেন বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনা সরানোর দায়িত্ব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নয়। বিভিন্ন কারণে কাজের মেয়াদ কয়েকবার বাড়ানো হয়েছিল। কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই আমাদের কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। আর কিছু স্থানে রাস্তা কিছুটা সংকোচিত হওয়ার অভিযোগ সঠিক। এটার জন্যই আমরা দায়ি না। আমরা যতটুকু জায়গা পেয়েছি সেভাবে রাস্তা করেছি।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন অর রশিদ বলেন, খুঁটি পোতার জন্য সুনির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই। যেখানে জায়গা পেয়েছি সেখানেই খুঁটি পোতা হয়েছে। একটি খুঁটি রাস্তার দুই-তিন ফিট ভেতরে আছে। এই খুঁটিটি সরিয়ে দেওয়া হবে।
রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নওয়াজিস রহমান বিশ^াস বলেন, নিয়ম অনুযায়ি বৈদ্যুতিক খুঁটি রাস্তার ড্রেনের বাইরে স্থাপন করার কথা। খুঁটি স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আমরা খুঁটি স্থানান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা ওজোপাডিকোকে দিয়েছি। অনেকবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু একটি খুঁটি কেন সরানো হলো না তা বুঝতে পারছি না।
তিনি বলেন, কাজের কিছু অংশ বাকী রয়েছে। তবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল কাজের স্থানে প্রস্তুত থাকলে সেক্ষেত্রে বিল দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়ক বিভাজকের কাজ অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে দিবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
খান মোহাম্মদ জহুরুল হক

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ
রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন (নীচ তলা),
কক্ষ নং-৩, রাজবাড়ী-৭৭০০।

Contact us: editor@dailyrajbarikantha.com

প্রকাশনাঃ
সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়নবী সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত এবং দক্ষিণ ভবাণীপুর, রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত।

মোবাইল- ০১৭১১১৫৪৩৯৬,
বার্তা বিভাগ- ০১৭৫২০৪০৭২০,
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯৭১১৫৪৩৯৬

error: Sorry buddy! You can\'t copy our content :) Content is protected !!