• বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন

বালিয়াকান্দিতে মৎস্য বিভাগের খননকৃত খালে সরু কালভার্ট এখন কৃষকের গলার কাটা

প্রতিবেদকঃ / ২৫ পোস্ট সময়
সর্বশেষ আপডেট সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের জিয়েলগাড়ীএলাকার তালতলা খালে মৎস্য বিভাগ কর্তৃক সরু কালভার্টসহ বাঁধ দেওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন চাষীরা। সরু খালে পানি প্রবাহে বাঁধার সৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত কালভার্টটি অপসারণের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বালিয়াকান্দি উপজেলা মৎস্য দপ্তর থেকে বলা হচ্ছে, খালে বাঁধ দেওয়ার বিষয়টি জেলা অফিসের প্রকৌশল দেখভাল করেছিলেন।
সোমবার সরেজমিন জিয়েলগাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তালতলা খালের কালভার্টটি পানির নিচে ডুবে গেছে। কালভার্টের কোন অস্তিত্বই সেখানে দেখা যাচ্ছে না। কালভার্টের বাঁধের আড়াই ফুট উপর পর্যন্ত পানি রয়েছে। বাঁধের কারণে পানিপ্রবাহ বাধা সৃষ্টি করছে। পানির নিচে থাকা মাটির বাঁধ স্রোতে ভেঙ্গে যাচ্ছে বলে উপস্থিত লোকজন জানান।
মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নারুয়া, নবাবপুর ও বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়ন জুড়ে বিস্তৃত তালতলা খালটি প্রবাহমান একটি খাল। খালটি শুরু হয়েছে চত্রা নদীর মুখ থেকে, এটির শেষ হয়েছে ভাটি খালে। খালের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি রেগুলেটর রয়েছে। অন্তত তিন দশক সময় ধরে নারুয়া ও নবাবপুর ইউনিয়নর ব্যাপক ফসলী জমি ও বিলের পানি এই খালের মাধ্যমে নিস্কাশিত হয়। সম্প্রতি ২০২০-২১ অর্থবছরে খালটি পুন খনন করা হয়েছে। পরে খালটির জিয়েলগাড়ি নামক স্থানে একটি আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়া হয়। জলাশয় সংরক্ষণের মাধ্যমে মৎস্য চাষের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাইপ কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কালভার্ট দুটির প্রশ^স্ততা ৬০০ মিলিমিটার। নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় রাজবাড়ীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রিফাত এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু নির্মাণ কাজ হওয়ার পর সবাই আশঙ্কা করছে কালভার্ট দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে পানি নিষ্কাশন সম্ভব নয়। বরং ওই এলাকায় পানি আটকে জলাবদ্ধতাসহ ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জিয়েলগাড়ি এলাকার বাসিন্দা জিতেন্দ্রনাথ বাড়ৈ বলেন, কালভার্টটি জনস্বার্থে হয়নি। এটা মানুষের জন্য ক্ষতিই করবে। এখন বর্ষা মৌসুম খালটি পানিপ্রবাহ বাধা সৃষ্টি করছে। শুধু শুধু সরকারের টাকা খরচ হয়েছে। এই এলাকায় প্রচুর আবাদী জমি রয়েছে। কিন্তু এভাবে বাঁধ দেওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। শচিন্দ্র নামে আরেকজন জানান, পানি কমলেই বাঁধের অপর পাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। অতি দ্রুত বাঁধটি ভেঙে দেওয়া উচিত বলে তারা জানান।
নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদশা আলমগীর বলেন, এই বাঁধ দিয়ে স্থানীয় চাষীদের কোনো উপকার হয়নি। দুই একটি পরিবারের উপকার হয়েছে। কিন্তু শত শত চাষীদের এতে ক্ষতি হয়েছে। বাঁধের কারণে খালের পানি বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ ওই পাইপ দিয়ে পানি বের হওয়া সম্ভব না। আবার বাঁধ দেওয়া হয়েছে খুব নিচু করে। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউএনও মহোদয়কে জানানো হয়েছে। বাঁধটি অপসারণ করা প্রয়োজন। তবে প্রশাসন ওই খালের সুবিধাজনক স্থানে সেতু নির্মাণ করলে ভাল হয়।
বালিয়াকান্দি উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নাফ বলেন, খালে বাঁধ দেওয়ার বিষয়টি জেলা অফিসের প্রকৌশল দেখভাল করেছিলেন। এখন বোঝা যাচ্ছে খালের উপর এভাবে বাঁধ দেওয়া সঠিক হয়নি। বিষয়টি উপজেলায় সভায় আলোচনা করা হয়েছে। আমরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আম্বিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমি অবগত। সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। বাঁধ নিয়ে দুর্ভোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাইপ কালভার্টসহ খালের উপর বাঁধ দেওয়ায় হিতে বিপরীত হয়েছে। প্রথমে ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই বাঁধটি দেওয়া হয়ে ছিল। বাঁধ অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নেই। বাঁধ নির্মাণের ঠিকাদার বিল নেওয়ার পর স্টোক করে মারা গেছে। বিষয়টি উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
খান মোহাম্মদ জহুরুল হক

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ
রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন (নীচ তলা),
কক্ষ নং-৩, রাজবাড়ী-৭৭০০।

Contact us: editor@dailyrajbarikantha.com

প্রকাশনাঃ
সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়নবী সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত এবং দক্ষিণ ভবাণীপুর, রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত।

মোবাইল- ০১৭১১১৫৪৩৯৬,
বার্তা বিভাগ- ০১৭৫২০৪০৭২০,
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯৭১১৫৪৩৯৬

error: Sorry buddy! You can\'t copy our content :) Content is protected !!