• মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন

কুশাহাটা চরের পায়াকট প্রাথমিক স্কুলের গল্প

প্রতিবেদকঃ / ২৯ পোস্ট সময়
সর্বশেষ আপডেট সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

মোজাম্মেল হক : চার পাশে নদী মাঝ খানে এক দ্বীপ দুর্গম চর তার নাম কুশাহাটা সেই অবহেলিত দূর্গম চরের গল্প রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১ নংওয়ার্ড ছিলো, এক সময় ছিলো জন বহুল এলাকা,কুশাহাটা হাট বাজার, স্কুল, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের পাশ দিয়ে পদ্মা নদী বয়ে যাওয়ায় আস্তে আস্তে রাক্ষসী পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়ে একের পর এক গ্রাম বিলীন হয়ে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে প্রায় ৮০ ভাগ নদী গর্ভে চলে যায়। তারপর থেকে কুশাহাটা নামক স্থানটি পদ্মা নদীর একটি অংশ হয়ে যায়, অনেক বছর নদী থাকার পর কালের বিবর্তনে আস্তে আস্তে এক সময় বালুচর জেগে ওঠে। পদ্মার এমন এক স্থানে কুশাহাটা চরটি জেগে ওঠে যার এক পাশে রাজবাড়ী এক পাশে পাবনা আর এক পাশে মানিকগঞ্জ। তার মাঝ খানে একটি দূর্গম চর কুশাহাটা, যে দিকে চোখ যায় তার চার পাশে পানি আর পানি। চরের অস্তিত্ব যখন শুরু হয় তখন ছিলো একটি ধুধু বালুচর ওখানে ছিলোনা কোন জনবসতি। কুশাহাটা নদী ভাঙনে কবলে পারা মানুষ গুলো গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ও শিবায়ল উপজেলার কানাইদিয়া চরে কিছু মানুষ বসতি শুরু করে, এভাবেই ভিটামাটি হারানো মানুষ গুলোর কেটে যায় অনেক গুলো বছর। যারা কানাইদিয়া চরে বসবাস শুরু করেন তারা শিবালয় ইউনিয়নের নাগরিক হয়। এরপর আবার কানাইদিয়া চর পদ্মা ভাঙনের কবলের পড়ে ফলে আবার কানাইদিয়া চরের বাসিন্দারা আবার নতুন করে জেগে ওঠা কুশাহাটা চরে বসতি শুরু করে। এক দিকে চার পার পাশে পদ্মার অথৈ পানি ও চরের বাসিন্দরা শিবালয় উপজেলার নাগরিক হওয়ায় গোয়ালন্দ উপজেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা চিকিৎসা সহ সকল প্রকার নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে পিছিয়ে থেকে এক অমানবিক অবহেলা নিয়ে জীবন যাপন করতে থাকে কুশাহাটা চরের মানুষ। পায়াকট্ বাংলাদেশের জম্ম ১৯৮০ সালে সংস্থাটি দেশের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে প্রতিটি জেলায় কোন না কোন প্রকল্প নিয়ে কাজ করে আসছে। তারই ধারা বাহিকতায় রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় ২০০০ সালে দৌলতদিয়া অবহেলিত মাতৃ পিতৃহীন শিশু,অধিকার বঞ্চিত নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করে তা এখনো চল মান। দুর্গম চর কুশাহাটার শিশু ও চরের বাসিন্দাদের নিয়ে , পায়াকট্ বাংলাদেশ সংস্থার পরিকল্পনা ও ভাবনা চিন্তা শুরু করেন শেখ রাজীব নামে এক ভদ্রলোক সে পায়াকট্ বাংলাশের একজন কর্মী হিসাবে কাজ করেন ২০১৬ সালে। কোন এক দিন সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শামীম এক দিন তাকে নিয়ে যায়। দূর্গমচরে সে চার পাশে নদী মাঝ খানে এক দ্বীপ দুর্গম চর কুশাহাটা সেখানে গিয়ে সারা দিন চরে ঘোরাঘুরি করে দেখতে পায় ৫ বছর থেকে ৬ বছর বয়সের অধিক শিশুরা বালুর মধ্যে খেলাধুলা করছে। শিশুদের দেখে তাদের সাথে কথা বলে। তখন সে শিশুদের বলে তোমরা পড়াশোনা করনা শিশুরা বললো না, কেন ? আমরা কোথায় পড়বো আমাদের এখানে তো কোন স্কুল নাই। এর পর শিশুদের কথা শেষে করে, কথা হলো চরের বয়স্কদের সাথে তারা বললো যে আমরা এই চরে বসবাসের পর থেকে নানা সমস্যা নিয়ে কোন রকম বেঁচে আছি আমাদের বাঁচ্চারা কেউ পড়াশুনা করতে পারছেনা। আমারা কোন সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইনা। আমারা এবং আমাদের শিশুদের কোন সমস্যা হলে ট্রলার করে নদী পাড়ি দিয়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার দুরে আরিচা(শিবালয়) নয় গোয়ালন্দ অথবা পাবনা যেতে হয়। আরো অনেক কিছু শুনলাম এবং জানলাম ফিরে এলাম গোয়ালন্দ। তার পর দিন আমার কর্মস্থল পায়াক্ট বাংলাদেশ অফিসে গিয়ে পায়াক্ট বাংলাদেশ এর পরিচালক আবু ইউসুফ চৌধূরী স্যারের নিকট কুশাহাটা চরের মানুষে সমস্যা গুলো বিশেষ করে শিশুদের কথা উল্লেখ করে পরিচালক আবু ইউসুফ চৌধূরী স্যারের নিকট একটি প্রতিবেদন পাঠাই, পরবর্তিতে স্যার ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকা হেড অফিস থেকে একজন কর্মকর্তাকে চর পরির্দশন ও শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা জন্য কি করা যায় তার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদ করার জন্য বলেন। আমি এবং আমাদের কর্মকর্তা আনোয়ার ভাই পুন:রায় কুশাহাটা চরে গিয়ে শিশুদের তালিকা তৈরি করি। এর পর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে চরের শিশুদের শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসি এবং আমি শিক্ষা প্রজেক্টের (পিও,শিক্ষা পরির্দশক হিসাবে যোগদান করি) এবং প্রথমে ব্র্যাক অর্থায়নে ১০টি প্রি-প্রামারি স্কুল দিয়ে একটি প্যাকেজের প্রজেক্ট শুরু করি। তার মধ্যে ২টি প্রি-প্রামারি স্কুল দিয়ে কুশাহাটা চরে শিশুদের জন্য সাবেক দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম নুরুল ইসলাম মন্ডল একটি দোচালা ঘরের টিন দেন, সেই ঘরেই মাইনদ্দিন এর বাড়ী ”শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করি। শুরুতেই চর থেকে ২ জন নারী শিক্ষক ১. মোছাঃ সাকিরুন ২. মোছাঃ বিথীকে নিয়োগ দেয়া হয়, সেই থেকে শুরু কুশাহাটা চরে শিশুদের শিক্ষার আলোয় ফেরা।এরপর যাহলো ব্র্যাক ২০১৭ নভেম্বর এর দিক বলেন, যে তারা আমাদের স্কুল গুলোতে অর্থায়ন করবে না। এরপর আমি আমার হেড অফিসে কথা বলে ২০১৭ ডিসেম্বরে ৮টি স্কুল বন্ধ করে দিয়ে কিন্তু কুশাহাটা চরের স্কুল চালু রাখার সিন্ধান্ত হয়। সেলফ হেলফ পদ্ধতির আওতায় শিশুদের অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করে চরের স্কুল চালু রাখা হয়। ২০১৮ সালের শেষের দিকে আগের দুই জুন শিক্ষক চাকরিকরতে নাচাওয়া পূণরায় আরো দুই নারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। ওই দুই জন শিক্ষকের এক জনের বিয়ে হয়ে যায়,অপর জন অসুস্থতার কারনে চাকরি ছেড়ে দেয়,পূণরায় পায়াক্ট বাংলাদেশ ওয়াজদ্দীন ও তার স্ত্রীকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেয়। স্কুলের বই খাতা চকসহ সকল সামগ্রী পায়াক্ট বাংলাদেশ সরবরহ করে এবং শিক্ষককে বেতনের একটা অংশ পায়াক্ট বাংলাদেশ প্রদান করে, এর পর বাঁকি বেতন (সেলফ হেলফ) পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিকট থেকে ব্যবস্থা করা হয় (প্রায় ৭,৫০০ টাকা)। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে বর্তমান ২০২২ “কুশাহাটা পায়াকট্ বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি”পায়াক্ট বাংলাদেশ পরিচালনা করছে।কোভডি পরস্থিতিরি কারণে কুশাহাটা স্কুল ঘড় টনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা পায়াক্ট বাংলাদশে থেকে একটি ঘড় পুন:রায় নির্মাণের জন্য উপজলো চেয়ারম্যান, উপজলো নির্বাহী র্কমর্কতা, গোয়ালন্দ পৌর সভার সম্মানিত ময়ের এর বরাবর আবদেন করি এবং প্রায় এক বছর যাবৎ অনেকে সহযোগিতা চাই। বিষয়টি প্রশাসক মহোদয় থকে শুরু করে প্রত্যেকেই জানানো হয়েছে। তার পরও আমরা উপজলো ও জেলা এনজিও সমন্বয় সভায় এ নিয়ে অনকে বার আলোচনা করেছি এবং তারা বলেছে আমরা একটি স্কুল ঘর তৈরী করে দেবার সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। কুশাহাটা বিদ্যালয়টি কখনো টাকা অভাবে বন্ধ হয়নি। “কুশাহাটা পায়াকট্ বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমান অবস্থা চলমান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
খান মোহাম্মদ জহুরুল হক

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ
রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন (নীচ তলা),
কক্ষ নং-৩, রাজবাড়ী-৭৭০০।

Contact us: editor@dailyrajbarikantha.com

প্রকাশনাঃ
সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়নবী সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত এবং দক্ষিণ ভবাণীপুর, রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত।

মোবাইল- ০১৭১১১৫৪৩৯৬,
বার্তা বিভাগ- ০১৭৫২০৪০৭২০,
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯৭১১৫৪৩৯৬

error: Sorry buddy! You can\'t copy our content :) Content is protected !!