• শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
উজানচর জামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা রাজবাড়ীতে বিএনপি’র রোড মার্চ সফল করতে ছাত্রদলের ঘোষণা রাজবাড়ীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) পালিত রাজবাড়ী মাটিপাড়া হোণ্ডাকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন দৌলতদিয়ায় ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে মিছিল আ.লীগ নেতা টিপুর উদ্যোগে কালুখালীতে প্রধানমন্ত্রী’র জন্মদিন পালিত দৌলতদিয়া থেকে ৫০ গ্রাম হেরোইনসহ ২জন গ্রেপ্তার কালুখালীর বোয়ালিয়া ইউনিয়ন আ. লীগের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত রামকান্তপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা রাজবাড়ীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত

সংগ্রহে ৪০ প্রজাতির দেশী-বিদেশী মুরগি গিনেস বুকে নাম লেখাতে চান

প্রতিবেদকঃ / ১৫৯ পোস্ট সময়
সর্বশেষ আপডেট বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২

সোহেল রানা : দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত জাহাঙ্গীর হোসেন ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অস্টম সেমিস্টারে পরীক্ষা না দিয়ে ভাগ্যের পরিবর্তন করতে ২০১১ সালে পাড়ি জমান মালদ্বীপ। সেখানে ভালো সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে তার মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল। আবারও মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি দিতে দালালের সাথে চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী জাহাঙ্গীরকে নিয়ে ভারতে অনেক দিন অবস্থান করান। ভারতে অবস্থানকালে তার বিদেশী মুরগী পালন মনের মধ্যে গেথে ফেলেন। ২০১৬ সালে ভারতে থাকা অবস্থায় ৪টি বিদেশি জাতের মুরগি পালনের কথা বলে নিয়ে আসেন। তারমধ্যে সাহস ও ক্রোধ জাগে সে মুরগী পালন করেই স্বাবলম্বী হবেন। সেখান থেকেই তার যাত্রা শুরু। এখন সে অনেক স্বাবলম্বী। বলছিলাম রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া (বাংলাদেশ হাট) এলাকার একজন স্বপ্নবাজ জাহাঙ্গীর হোসেনের কথা।
সফল খামারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আছিল, টার্কি ও কাদার নাথ জাত দিয়ে শুরু করেন মুরগি পালন। এরপর বিদেশি মুরগির চাহিদা দেখে ভারত, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে মুরগি সংগ্রহ করেন। এখন তার খামারে ব্রাহামা, সিল্কি, সিবরা, সিলভার সেবরাইড, গোল্ডেন সেবরাইড, পলিস্কেব, সুলতান, প্যারটলিভ, ইউন্ডডট, সোমাত্রা, সিলভার লেস, কসমো, আছিল, ক্রেস্টেড পলিস্তেব, গোল্ডেন সেবরাইড, মল্টেড জাপানিজ, ব্লুবারলেজ, ব্ল্যাকটেল, ইয়োকামাহাসহ প্রায় ৪০ প্রজাতির দেড় শতাধিক মুরগি রয়েছে। বাহারি জাতের এসব মুরগি দেখতে প্রতিদিন তার খামারে আসেন অনেক সৌখিন মানুষ। তার দেখাদেখি উৎসাহী হচ্ছেন অনেকেই।
তার খামারে সেবরাইড, ব্রাহামা, পেনসিল লেগ, সোমাত্রাসহ বিশ্বের দুর্লভ ও বিরল প্রায় ৪০ প্রজাতির মুরগির সংগ্রহ করেছেন। এখন তার খামারে বিদেশি প্রজাতির প্রায় দেড় শতাধিক মুরগি রয়েছে। বিস্ময়কর হলেও তার খামারের এক জোড়া মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
তিনি বলেন, মাসে মুরগি পালনে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও আয় হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ফলে এটি এখন পেশা হিসেবেই নিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন দেশে যাওয়ার ভিসা জটিলতা নিরসনে সরকারের সহযোগিতা পেলে ভবিষতে বিদেশি জাতের আরও মুরগি সংগ্রহ করে সর্বোচ্চ মুরগি সংগ্রাহক হিসেবে গিনেস বুক ওয়ার্ল্ডে নাম লেখাতে চান তিনি।
জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তার খামারে পালন করা ইন্দোনেশিয়ার আইএনচি মানিক এক লাখ টাকা ও ভিয়েতনামের তাউরান ৭০ হাজার টাকা জোড়া বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে সুমাত্রা ৫০ হাজার টাকা জোড়া, ইংল্যান্ডের সেবরাইড ১৫ থেকে ২০ হাজার, আমেরিকা ও কলোম্বিয়ার ব্রাহামা ১৫ থেকে ১৬ এবং ইংল্যান্ডের পেনসিল লেগ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিরো সাইজের বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা জোড়া। দুর্লভ ও বিরল জাতের এসব মুরগি কিনতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে অনেক শৌখিন মানুষ প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছেন জাহাঙ্গীরের ইত্যাদি এগ্রো অ্যান্ড হ্যাচারি ডটকম ওয়বেসাইটডসহ তার পেজের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, এসব মুরগির চাহিদা দেখে অন্য বিদেশি জাতের মুরগি সংগ্রহ করতে থাকেন। এখন তার খামারে প্রায় ৪০ প্রজাতির মুরগি রয়েছে। এসব মুরগির ডিম থেকে নিজের তৈরি মেশিনের সাহায্যে বাচ্চা উৎপাদন করে অনলাইনে বিক্রি করছেন। প্রথমে শখের বসে হলেও এখন পেশা হিসেবে নিয়েছেন মুরগি পালন। এতে মাসে খরচ বাদেও আয় করেন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত মুরগি সংগ্রহ করতে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে গিয়েছেন। তবে ভিসা জটিলতায় অনেক দেশে যেতে পারছেন না। তার ইচ্ছা আরও বিভিন্ন দেশে গিয়ে দুর্লভ জাতের মুরগি সংগ্রহ করা। বিদেশি জাতের মুরগির সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে তার নাম লেখানো। এজন্য ভিসা জটিলতা নিরসনে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
স্থানীয় গফুর মোল্যা, সোবাহান মোল্লা, আরব আলী বলেন, জাহাঙ্গীরের বাড়ি তাদের বাড়ির পাশে। বিদেশি জাতের রং বেরঙের মুরগি তার খামারে আছে শুনে দেখতে এসেছেন। মুরগি দেখে তারা অবাক। মুরগিগুলো দেখতে অনেক সুন্দর। নিজ চোখে না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না। কোনোটার লেজ লম্বা, মাথায় ঝুঁটি, আবার ঠোঁট টিয়া পাখির মতো এবং দেখতেও বাহারি রঙের। এরকম মুরগি এর আগে তারা দেখেননি। যার কারণে তারা নিজেরাও এরকম খামার করতে চান।
ফরিদপুর থেকে মুরগির বাচ্চা ক্রয় করতে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারনা দেখে মুরগী কিনতে এসেছি। আমার কবুতর ফার্ম আছে, তবে শখের বসে মুরগি পালন শুরু করেছি।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খায়ের উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যবসায়িক দিক হিসাব করে এসব মুরগি পালন করা যাবে না। সৌখিনতা হিসেবে এসব মুরগি অনেকে পালন করে থাকেন। তার মধ্যে কালুখালীর জাহাঙ্গীর অন্যতম। তবে এ ধরনের সৌখিন খামারিদের সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা প্রাণিসম্পদ দপ্তর করে থাকেন। এ খামারে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০ জাতের বেশি মুরগি রয়েছে। মুরগির ডিম থেকে জাহাঙ্গীর নিজস্ব পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত মেশিনের সাহায্যে বাচ্চা ফোটান। তার এরকম কার্যক্রম প্রশংসনীয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

error: Sorry buddy! You can\'t copy our content :) Content is protected !!