• সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

রাজবাড়ীর ৭৩ টি অবৈধ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চলছে

প্রতিবেদকঃ / ৬৩ পোস্ট সময়
সর্বশেষ আপডেট শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২

সোহেল রানা : রাজবাড়ীতে ৯৯টি ইটভাটার ৭৩টি অবৈধ। দেশের উচ্চ আদালত এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করলেও রাজবাড়ীতে অবৈধ ইটভাটাগুলো আগের মতই সচল রয়েছে। উপরন্ত ফসলী জমিতে গড়ে উঠা অধিকাংশ ইটভাটায় প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ভাটা মালিকদের দাবী সকল কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করেই ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে বলেও দাবী ভাটা মালিকদের। তবে প্রশাসনের দাবী তারা অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ঝাউগ্রামে এমবিবি ব্রিক্স। এ ইটভাটাটি ৩ ফসলী জমিতে গড়ে উঠেছে। ভাটার পাশে ঝাউগ্রাম-কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন পরিষদ। ভাটার কালো ধোঁয়া ও বাতাসে বালি উড়ে স্কুলের মধ্যে প্রবেশ করছে। এতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ভাটাটিতে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এ ভাটার মালিক সুনীল কুমার বিশ^াস।
কালুখালীর বোয়ালিয়া গ্রামের মধ্যে অবস্থিত ৭৭৭ ব্রিক্স। এ ভাটার মালিক টুটুল বলেন, কয়লার দাম বেশি হওয়ার কারণে ইটের খরচ বেশি হয়। একারণে তার দু’টি ভাটার মধ্যে একটি কাঠ পোড়াচ্ছেন। অন্যটি বন্ধ রেখেছেন। তার প্রতিদিন ৩’শ মন কাঠ লাগে। পাশেই রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে মোহনপুর অবস্থিত কেসিবি ব্রিক্স, কেবি ব্রিক্স ২টি অবস্থিত। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হলেও ফসলী জমিতে গড়ে উঠা ইটভাটাতে কাঠের স্তুপ করে প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারায় অবস্থিত এসবিএস ব্রিক্স। এখানেও প্রকাশ্যে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইটভাটার মালিক বদরুল সরদার বলেন, আমরা কিভাবে কাঠ পোড়াচ্ছি তা ডিসি অফিসে গিয়ে সাক্ষাতকার নেন, উনারা ভালো বলতে পারবেন। রাজবাড়ী পৌরসভার চরলক্ষীপুর এসবিবি ব্রিক্স। এখানে ট্রাকে করে এনে কাঠ ফেলানো হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে ও শহরের মধ্যে হলেও প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। সদর উপজেলার খানখানাপুর আরএন্ড ব্রিক্স, গোয়ালন্দ উপজেলার ভাগলপুর এসআইবি ব্রিক্স, এএসবি ব্রিক্স ৩ফসলী জমিতে গড়ে উঠার পাশাপাশি প্রকাশ্যে কাঠ পোড়াচ্ছেন। রামকান্তপুর রাবেয়া বিক্স এ কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চলছে।
এ ভাবেই রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা, বালিয়াকান্দি, কালুখালী উপজেলাতে ইটভাটায় প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চলছে।
কয়েকজন ভাটা মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রশাসনিক সকল দপ্তরকে ম্যানেজ করেই কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। কয়লার দাম বেশি হওয়ার কারণে কয়লা দিয়ে ইট পোড়ালে লোকসান হয়। এ কারণে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই কাঠ পোড়াচ্ছি। ভাই নিউজ করে আমাদের ক্ষতি করবেন না।
ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, রাজবাড়ী জেলার ৫টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভা এলাকায় ৯৯টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটার মধ্যে ৭৩টি অবৈধ। প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানোর কারণে তারা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
গত ২০ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিবেশ অধিদপ্তর, সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন হকের নেতৃত্বে ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগিতায় বালিয়াকান্দি উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট ১০ টি ইটভাটায় অভিযান চালায়। অভিযানে আয়নাল হক দেওয়ানের ইটভাটা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয় এবং টিএমবি ব্রিক্সের ২টি, এডিবি ব্রিক্স, রনি ব্রিক্সসহ নয়টি ইটভাটায় ৩৭ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। আর কোন উপজেলাতে এখন পর্যন্ত কোন অভিযান পরিচালনা করেনি।
ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী একটি প্রাইভেটকার নিয়ে রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন ইটভাটায় যান। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি পরিদর্শনে এসেছেন বলে প্রকাশ করেন। তবে তাদের পদক্ষেপ কি এবং ছুটির দিনে ম্যাজিষ্ট্রেট ছাড়া কি করছেন জানতে চাইলে তিনি গাড়ী নিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, গত ৬ ডিসেম্বর পাংশা উপজেলায় এএমবি ব্রিকস ও এএনবি ব্রিকসকে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা, গত ৫ ডিসেম্বর সদর উপজেলায় ডিএসবি ব্রিকস ও এফএবি ব্রিকসকে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা, গত ৪ ডিসেম্বর বালিয়াকান্দি উপজেলায় টিএম ও এমএফ ব্রিকসকে কাঠ পোড়ানোর দায়ে এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
তবে পাংশা, কালুখালী, রাজবাড়ী সদর, বালিয়াকান্দি, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা এখন পর্যন্ত কোন আদালত পরিচালনা করেননি।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে রাজবাড়ী ইটভাটা মালিকদের সংগঠন রাজবাড়ী ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আক্তারুজ্জামান হাসান বলেন, আমি নিজের টাকা ব্যয় করে শহরে ইটভাটা মালিক সমিতির অফিস করে দিয়েছি। বেশিরভাগ ভাটা মালিক কোন প্রকার কো-অপারেশন করতে চাননা।
তিনি জানান, এবছর তিনি নিজে ইট ভাটা করেননি। গত দু’বছর আগে তার নিজের মালিকানাধীন ইট ভাটায় অভিযান চালিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর গুড়িয়ে দেয়। এরপর আর ভাটা করা হয়নি ।
একজন ভাটা মালিক অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফান্ডের নামে টাকা তোলা হয়। কিন্তু যথাযথ স্থানে সেই টাকা না পৌছানোর কারণে তাদেরকে প্রতি পদে পদে ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। এর জন্য ভাটা মালিক সমিতির কোন কোন নেতাকে তিনি দোষারোপ করেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
খান মোহাম্মদ জহুরুল হক

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ
রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন (নীচ তলা),
কক্ষ নং-৩, রাজবাড়ী-৭৭০০।

Contact us: editor@dailyrajbarikantha.com

প্রকাশনাঃ
সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস, ৫২/২ টয়নবী সার্কুলার রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত এবং দক্ষিণ ভবাণীপুর, রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত।

মোবাইল- ০১৭১১১৫৪৩৯৬,
বার্তা বিভাগ- ০১৭৫২০৪০৭২০,
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯৭১১৫৪৩৯৬

error: Sorry buddy! You can\'t copy our content :) Content is protected !!