• বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
রাজবাড়ীতে আদালতের নির্দেশে জমির দখল বুঝে পেলেন নাসির উদ্দিন কৃষক পরিবারের সন্তানদের অংশগ্রহণে দৌলতদিয়ায় নাইট সর্টপিস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উদ্বোধন বালিয়াকান্দি বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পাংশায় বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল ল্যাবও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান গোয়ালন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে দূরন্ত ক্রিকেট একাদশ চ্যাম্পিয়ন কালুখালীতে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস পালিত পাংশায় জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত বালিয়াকান্দিতে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবসে র‌্যালী ও আলোচনা সভা পাংশায় জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস পালিত গোয়ালন্দে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবসে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

পাংশা প্রতিবন্ধী স্কুল : নানা অনিয়মের সত্যতা মিললেও দীর্ঘ৪ মাসেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি

প্রতিবেদকঃ / ৮৬ পোস্ট সময়
সর্বশেষ আপডেট বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩


কামাল হোসেন : রাজবাড়ীর পাংশায় একটি প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগে আর্থিক অনিয়মের সত্যতা মেলায় এবং বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের আশ^াস প্রদান করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিকট হতে অর্থ গ্রহণসহ নানা অভিযোগে চলতি বছরেরর ৩০ জুলাই এতিম প্রতিবন্ধী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ‘রাধে পরান’ এর সভাপতি আল মামুন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে সহকারী কমিশনার মো. সাইদুল ইসলাম সাক্ষরিত একটি পত্র প্রেরণ করেন জেলা প্রশাসন। অথচ অদৃশ্য কারণে ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী। এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত আল মামুন সিদ্দিকী পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং এতিম প্রতিবন্ধী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ‘রাধে পরান’ এর সভাপতি।
ওই পত্র সূত্রে জানাগেছে, এতিম প্রতিবন্ধী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ‘রাধে পরান’ এর সভাপতি আল মামুন সিদ্দিকী প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়োগ প্রদানের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ, সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নানাবিধ সুবিধা প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিকট হতে প্রতারণামূলকভাবে অর্থ গ্রহণ এবং প্রতিবন্ধী স্কুলের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারি-বেসরকারি অনুদান সংগ্রহ করে উন্নয়নমূলক কাজ না করে অর্থ আত্নসাৎ করেছেন।
এছাড়াও আহম্মদ আলী মোল্লা মেমোরিয়াল অরফ্যান্স ভিসএ্যাবল স্কুল এন্ড কলেজ নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা এবং শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
ওই পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়,আল মামুন সিদ্দিকী সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নানাবিধ সুবিধা বিশেষত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছে। যা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে। সে প্রেক্ষিতে রাজবাড়ী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক প্রতিবন্ধী স্কুলের সরকারি অনুমোদন না থাকায় আল মামুন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
এবিষয়ে এতিম প্রতিবন্ধী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা রাধে পরানের সভাপতি আল মামুন সিদ্দিকীর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। এমনকি তার প্রতিষ্ঠানে যেয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী বলেন, প্রতিবন্ধি স্কুলের নামে অর্থ আত্নসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায়, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ এসেছে আমাদের কাছে।এ নির্দেশনা আসার পর তাকে মৌখিকভাবে তার প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার আদেশ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।ওই পত্রেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও আপনি শুধুমাত্র তাকে মৌখিকভাবে নির্দেশ প্রদান করেছেন কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই পত্রে আমাকে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে , যে কারণে তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
সরেজমিন ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে অবস্থিত আহম্মদ আলী মোল্লা মেমোরিয়াল অরফ্যান্স ভিসএ্যাবল স্কুল এন্ড কলেজের সকল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসময় প্রতিষ্ঠানের সভাপতির খোঁজ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি এবং ওই প্রতিষ্ঠানের কেও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
পরে স্থানীয়দের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, নিয়মিতভাবে স্কুলটি খোলা হয়, পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং শিক্ষকরা ক্লাস নেন এমনকি প্রতিষ্ঠানের অবস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য রান্নাবান্নাও করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আল মামুন সিদ্দিকী এ প্রতিষ্ঠানটিকে দূর্ণীতির আখরায় পরিনত করেছে। শুনেছি জেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে পত্র দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যা আসলেই দুঃখজনক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ